বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরেও যে একটা অন্ধকার জগৎ আছে, যেখানে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পরে অনেক কথা, অনেক খবর। এই ডার্ক সোশাল মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব কিন্তু কোনো অংশে কম নয়। বরং অনেক সময় দেখা যায়, কোনো প্রোডাক্ট বা বিষয় সম্পর্কে মানুষ সোশ্যালে যতটা না আলোচনা করে, তার চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করে ব্যক্তিগত পরিসরে। আমি নিজে দেখেছি, আমার বন্ধুরা কোনো নতুন রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভালো লাগলে সেটা ফেসবুকে পোস্ট করার আগে আমাকে ফোন করে জানায়।আসুন, নিচের লেখা থেকে ডার্ক সোশাল মার্কেটিং সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা নেওয়া যাক।
ডার্ক সোশাল: যখন আলোচনাটা হয় আড়ালেডার্ক সোশাল মার্কেটিংয়ের আসল মজাটা হল, এখানে সবকিছু ব্যক্তিগত স্তরে হয়। ধরুন, আপনি নতুন একটা ফোন কিনলেন। ফেসবুকে ছবি দেওয়ার আগে আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে তো জানাবেন, তাই না?
এই যে ব্যক্তিগত স্তরের আলোচনা, এটাই ডার্ক সোশালের মূল ভিত্তি।
১. কেন এই মার্কেটিং এত গুরুত্বপূর্ণ?

ডার্ক সোশাল মার্কেটিং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, সেটা বুঝতে গেলে আমাদের একটু অন্যভাবে ভাবতে হবে। মানুষ যখন কোনো কিছু মন থেকে পছন্দ করে, তখন সেটা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে চায়। কিন্তু সব কথা তো আর সোশ্যালে বলা যায় না, তাই না?
ক. বিশ্বাসের জায়গা
ডার্ক সোশ্যালে মানুষ সাধারণত তাদের পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলে। তাই এখানে বিশ্বাসের একটা ব্যাপার থাকে। কেউ যদি আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো প্রোডাক্টের ব্যাপারে ভালো বলে, আপনি সেটা বিশ্বাস করার সম্ভাবনা বেশি।
খ. ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
এখানে মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। “আমি এই রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলাম, খাবারটা দারুণ ছিল” – এই ধরনের কথা শুনলে আপনারও ইচ্ছে করবে একবার গিয়ে দেখতে।
২. ডার্ক সোশালের কিছু মজার উদাহরণ
ডার্ক সোশালের উদাহরণ দিতে গেলে অনেক কিছুই বলা যায়। আমি কয়েকটা বাস্তব উদাহরণ দিচ্ছি:
ক. সিনেমার রিভিউ
ধরুন, একটা নতুন সিনেমা রিলিজ হল। আপনি সিনেমাটা দেখে আপনার বন্ধুকে বললেন, “ভাই, সিনেমাটা ফাটাফাটি!” আপনার বন্ধু কিন্তু আপনার কথা শুনে সিনেমাটা দেখতে যেতে পারে।
খ. পোশাকের গল্প
আমার এক পরিচিত দিদি একটা অনলাইন শপ থেকে ড্রেস কিনেছিলেন। ড্রেসটা এত সুন্দর ছিল যে, তিনি তাঁর বান্ধবীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছবি পোস্ট করলেন। সেই গ্রুপের অনেকেই সেই ড্রেসটা কিনতে আগ্রহী হল।
৩. ডার্ক সোশাল মার্কেটিংয়ের সুবিধা এবং অসুবিধা
ডার্ক সোশাল মার্কেটিংয়ের যেমন কিছু সুবিধা আছে, তেমনই কিছু অসুবিধাও আছে। চলুন, সেগুলো একটু দেখে নেওয়া যাক:
| সুবিধা | অসুবিধা |
|---|---|
| লক্ষ্য করা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো যায় | ফলাফল ট্র্যাক করা কঠিন |
| খরচ কম | নিয়ন্ত্রণ করা যায় না |
| বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি | ছড়িয়ে পড়া ধীর |
৪. ডার্ক সোশালকে কিভাবে কাজে লাগাবেন?
ডার্ক সোশাল মার্কেটিংকে সরাসরি কাজে লাগানো কঠিন, কারণ এটা ব্যক্তিগত স্তরে হয়। তবে কিছু উপায় আছে, যা দিয়ে আপনি এই মার্কেটিংয়ের সুবিধা নিতে পারেন:
ক. গ্রাহকদের উৎসাহিত করুন
আপনার গ্রাহকদের বলুন, তারা যেন তাদের বন্ধুদের সঙ্গে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে আলোচনা করে। আপনি তাদের জন্য কিছু অফারও দিতে পারেন।
খ. ভালো কনটেন্ট তৈরি করুন
এমন কনটেন্ট তৈরি করুন, যা মানুষ শেয়ার করতে উৎসাহিত হয়। মজার ভিডিও, তথ্যপূর্ণ আর্টিকেল – এগুলো ডার্ক সোশালে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পরে।
৫. কিভাবে বুঝবেন ডার্ক সোশাল কাজ করছে?
ডার্ক সোশাল মার্কেটিংয়ের ফলাফল ট্র্যাক করা একটু কঠিন। তবে কিছু জিনিস নজরে রাখলে আপনি বুঝতে পারবেন যে, এটা কাজ করছে কিনা:
ক. ওয়েবসাইটের ট্র্যাফিক
যদি দেখেন আপনার ওয়েবসাইটে হঠাৎ করে অনেক বেশি ট্র্যাফিক আসছে, তাহলে বুঝবেন ডার্ক সোশাল কাজ করছে।
খ. গ্রাহকদের মতামত
গ্রাহকদের থেকে ফিডব্যাক নিন। তারা আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে কী ভাবছে, সেটা জানুন।
৬. ডার্ক সোশাল মার্কেটিংয়ের ভবিষ্যৎ
ডার্ক সোশাল মার্কেটিংয়ের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। মানুষ যত বেশি ব্যক্তিগত পরিসরে কথা বলবে, এই মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব তত বাড়বে। তাই আপনার উচিত, এখন থেকেই এই বিষয়ে নজর রাখা।* ডার্ক সোশাল মার্কেটিংয়ের মূল কথা হল ব্যক্তিগত আলোচনা এবং বিশ্বাসের উপর নির্ভরতা।
* এটাকে কাজে লাগাতে হলে গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে হবে এবং ভালো কনটেন্ট তৈরি করতে হবে।
* ফলাফল ট্র্যাক করা কঠিন হলেও, কিছু উপায় আছে যা দিয়ে আপনি বুঝতে পারবেন এটা কাজ করছে কিনা।ডার্ক সোশাল মার্কেটিং হয়তো সবসময় আলোচনার কেন্দ্রে থাকে না, কিন্তু এর ক্ষমতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই।ডার্ক সোশাল নিয়ে এই আলোচনাটা কেমন লাগল, জানাতে ভুলবেন না। এই মার্কেটিংয়ের জগৎটা একটু অন্যরকম, কিন্তু ঠিকভাবে বুঝতে পারলে আপনার ব্যবসার জন্য দারুণ ফল আনতে পারে। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি, খুব শীঘ্রই নতুন কিছু নিয়ে আবার হাজির হব।
শেষের কথা
ডার্ক সোশাল মার্কেটিংয়ের ধারণাটা হয়তো একটু জটিল মনে হতে পারে, কিন্তু একবার যদি আপনি এর ভেতরের কলকব্জাগুলো বুঝতে পারেন, তাহলে দেখবেন এটা আপনার ব্যবসার জন্য দারুণ একটা হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। ব্যক্তিগত স্তরের এই আলোচনাগুলো আপনার ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের বিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে, যা শেষ পর্যন্ত আপনার ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই, ডার্ক সোশালের শক্তিকে অবহেলা না করে, আজই আপনার মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিতে এর ব্যবহার শুরু করুন।
দরকারী কিছু তথ্য
১. ডার্ক সোশাল মার্কেটিং মূলত ব্যক্তিগত স্তরের যোগাযোগের উপর নির্ভরশীল, যেখানে মানুষজন নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শেয়ার করে।
২. এই মার্কেটিংয়ের প্রধান সুবিধা হল, এটি গ্রাহকদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায় এবং ব্যক্তিগত সংযোগ স্থাপন করে।
৩. ডার্ক সোশালের কার্যকারিতা পরিমাপ করা কঠিন হলেও, ওয়েবসাইটের ট্র্যাফিক এবং গ্রাহকদের ফিডব্যাক বিশ্লেষণ করে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
৪. গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে পারলে এবং আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করতে পারলে ডার্ক সোশাল মার্কেটিংয়ের সুবিধা নেওয়া যায়।
৫. এই মার্কেটিংয়ের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল, কারণ মানুষ যত বেশি ব্যক্তিগত পরিসরে আলোচনা করবে, এর গুরুত্ব তত বাড়বে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ডার্ক সোশাল মার্কেটিং হল ব্যক্তিগত স্তরের আলোচনা এবং বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি প্রক্রিয়া। এখানে গ্রাহকদের উৎসাহিত করা এবং ভালো কনটেন্ট তৈরি করার মাধ্যমে আপনি আপনার ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে পারেন। যদিও এর ফলাফল ট্র্যাক করা কঠিন, তবুও ওয়েবসাইটের ট্র্যাফিক এবং গ্রাহকদের ফিডব্যাক বিশ্লেষণ করে আপনি ধারণা পেতে পারেন যে, এটি আপনার ব্যবসার জন্য কতটা কার্যকর হচ্ছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: ডার্ক সোশাল মার্কেটিং আসলে কী?
উ: ডার্ক সোশাল মার্কেটিং হলো সেইসব আলোচনা যা পাবলিক প্ল্যাটফর্ম যেমন Facebook, Instagram-এ হয় না, কিন্তু ব্যক্তিগত স্তরে বন্ধুদের মধ্যে, মেসেঞ্জারে বা অন্য কোনো মাধ্যমে হয়ে থাকে। ধরুন, আপনি একটা নতুন ফোন কিনলেন, সেটা নিয়ে বন্ধুদের সাথে WhatsApp গ্রুপে আলোচনা করলেন, কিন্তু Facebook-এ কিছু লিখলেন না। এটাই ডার্ক সোশাল মার্কেটিং।
প্র: ডার্ক সোশাল মার্কেটিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উ: ডার্ক সোশাল মার্কেটিং গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে মানুষ সাধারণত বেশি সৎ এবং তাদের ব্যক্তিগত মতামত শেয়ার করে। যেহেতু এটা পাবলিক প্ল্যাটফর্ম নয়, তাই মানুষ কোনো কিছু কেনার আগে বা ব্যবহার করার আগে অন্যদের অভিজ্ঞতা জানতে চায় এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। আমি দেখেছি, আমার অনেক বন্ধু কোনো জিনিস কেনার আগে আমার মতামত নেয়, কারণ তারা জানে আমি সত্যি কথা বলব।
প্র: ডার্ক সোশাল মার্কেটিংকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়?
উ: ডার্ক সোশাল মার্কেটিংকে কাজে লাগানোর জন্য আপনাকে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করতে হবে। আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে ভালো রিভিউ তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে। ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এক্ষেত্রে খুব কাজে দেয়। এছাড়া, কাস্টমারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের সমস্যা সমাধান করলে তারা অন্যদের কাছে আপনার ব্র্যান্ডের কথা বলবে। আমার মনে আছে, একবার একটি অনলাইন শপ থেকে একটি ড্রেস কিনেছিলাম, যেটা আমার পছন্দ হয়নি। আমি তাদের কাস্টমার কেয়ারে জানালে তারা সাথে সাথে রিপ্লেস করে দেয়। এরপর আমি নিজে থেকেই আমার বন্ধুদের ওই শপের কথা বলি।
📚 তথ্যসূত্র
Wikipedia Encyclopedia






